শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শিক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

লকডাউন এর মধ্যেই জমা দিতে হবে মাধ্যমিকের খাতা, সমস্যায় বহু পরীক্ষক ।

 ভারত নিউজ - রাজ্যে  মহামারী ও লকডাউন চলছে। তারই মাঝে মাধ্যমিকের খাতা দেখার সাথে যুক্ত পরীক্ষকদের খাতা ও নম্বর শীট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, লকডাউন শুরু হওয়ার প্রথমেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ জানিয়ে দেয় মাধ্যমিকের খাতা জমা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ পনেরোই জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে কিন্তু লকডাউন এখনও শেষ হয়নি তারই মাঝে প্রধান পরীক্ষকরা পরীক্ষকদের কাছে খাতা ও নম্বর শীট চেয়ে পাঠায়।  তাতেই বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা বিপাকে পড়ে কারণ এখন যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহন রাস্তায় নেই। 
 প্রধান পরীক্ষকদের বাড়ি থেকে পরীক্ষকদের বাড়ি অনেকেরই দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত। অনেকেরই নিজস্ব বাইক নেই সেক্ষেত্রে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে।  আবার চাইলেও গাড়ি এখন সহজে ভাড়ায় পাওয়া যায়না। তাছাড়া, প্রধান পরীক্ষকের বাড়িতে খাতা জমা দিতে গেলে একটা জমায়েতের আশঙ্কা থাকে এতে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানাতে পারেন।  পরীক্ষকদের বাড়ি কারো কারো রেড জোন বা কনটেইনমেন্ট এলাকায় হতে পারে আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রধান পরীক্ষকের বাড়িও রেড জোন বা কন্টেনমেন্ট এলাকায় হতে পারে সেক্ষেত্রে একটা ঝুঁকি থেকেই যায়। কোন কোন শিক্ষক সংগঠনের মতে এক্ষেত্রে পর্ষদ সরাসরি পরীক্ষকদের বাড়ি থেকে খাতা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করতে পারতো। তাছাড়া, শিক্ষকদের আরেকটি অভিযোগ খাতা জমা দেওয়ার জন্য  প্রধান পরীক্ষক  কোনও লিখিত অর্ডার দেননি, মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন যেহেতু লকডাউন চলছে  সেহেতু  পরীক্ষকরা  কোনও লিখিত অর্ডার ছাড়া  বাড়ির বাইরে যেতে চাইছেননা।  অপরদিকে উচ্চমাধ্যমিক এর ক্ষেত্রে  যে সমস্ত পরীক্ষককে  খাতা অনেক আগেই  বিতরণ করে দেওয়া হয়েছিল তাদেরকে  আপাততঃ  নম্বর শীট  ই - মেইল করে বা রেজিস্ট্রি পোস্টে  পাঠাতে বলা হয়েছে । 

শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০

অনলাইন ক্লাস - দশম শ্রেণী , ইতিহাস - তৃতীয় অধ্যায়, প্রতিরোধ ও বিদ্রোহ ।

          আঠারোশ সাতান্ন খ্রিস্টাব্দের আগে ব্রিটিশ বিরোধী যে বিদ্রোহগুলি হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, চুয়াড় বিদ্রোহ, কোল বিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ,  ফরাজি ও ওয়াহাবি  আন্দোলন। 
                          বৃটিশের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্রোহেগুলোর মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য হল সন্ন্যাসী বিদ্রোহ।  তারা ছিল শ্রী শঙ্করাচার্যের অনুগামী।  শঙ্করাচার্যের অনুগামীরা দশটি সম্প্রদায়ে বিভক্ত ছিল।  বিদ্রোহী সন্ন্যাসীরা ছিল গিরি সম্প্রদায়ভুক্ত।  বাংলাদেশে  শাসনের প্রথম দিকে ইংরেজ কোম্পানিকে এক প্রবল সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সম্মুখীন হতে হয়।  ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব থেকে দুটি পৃথক গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। হিন্দু সন্ন্যাসী ও মুসলিম ফকিররা ক্ষুধার্ত চাষী, সম্পত্তিচ্যুত জমিদার ও কর্মচ্যুত সৈনিকদের অকুণ্ঠ সমর্থন লাভ করে। এই সময় রাষ্ট্রবিপ্লব ও অরাজকতার সুযোগে বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত একদল নাগা সন্ন্যাসী উত্তরবঙ্গের নানা স্থানে লুটতরাজ ও হত্যাকাণ্ড করে বেড়াতো। তাদের কোনো নির্দিষ্ট বাসস্থান ছিলনা।  তারা সাধুর বেশে নানা অঞ্চলে ঘুরেবেড়িয়ে নাবালক শিশু চুরি করে দল বৃদ্ধি করতো।  তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করত। বাংলায় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এর পর এদের উপদ্রব ক্রমেই বৃদ্ধি পায়।  দরিদ্র কৃষক, সম্পত্তিচ্যুত জমিদার ও বেকার সৈন্যদল এদের সঙ্গে যোগ দেয়। সন্ন্যাসীরা বিভিন্ন  অঞ্চলে উপস্থিত হয়ে গৃহস্থর নিকট অর্থ দাবি করত এবং তা না পেলে লুটপাট করত। তাদের উপদ্রবে মালদহ, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, ঢাকা প্রভৃতি জেলার অধিবাসীরা সর্বদাই সন্ত্রস্ত থাকতো। 1772 খ্রিস্টাব্দে সন্ন্যাসীরা রংপুরে সিপাহীদের যুদ্ধে পরাস্ত করে এবং তাদের নায়ক ক্যাপ্টেন টমাসকে হত্যা করে। সরকারি সেনাদের পরাস্ত করলে তাদের মধ্যে দারুণ উৎসাহের সঞ্চার হয় এবং তারা নানা স্থানে আক্রমণ শুরু করে।  একেকজন দলপতির অধীনে প্রায় 5-7 হাজার  নাগা সন্ন্যাসী ও অন্যান্যরা থাকতো।  পরে তারা বাংলা ও বিহার ত্যাগ করে মহারাষ্ট্রের দিকে চলে যায়।  প্রায় 50 বছর ধরে অশান্তময় জীবন নির্ভর করে উনবিংশ শতকের মধ্যভাগে এই বিদ্রোহের অবসান ঘটে। বঙ্কিমচন্দ্রের দেবী চৌধুরানী নামক গ্রন্থে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের বিবরণ পাওয়া যায়। বাংলায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের বিখ্যাত নায়ক - নায়িকা ছিলেন ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানী।  মূলত ইংরেজের শোষণ  থেকে রক্ষার জন্য সন্ন্যাসী ও ফকিরদের আবির্ভাব ঘটে।  তাদের অসফলতার প্রধান কারণ ছিল অভিজ্ঞতা,  যোগাযোগ ও নেতৃত্বের অভাব। সেইসঙ্গে ধর্মীয় ভেদাভেদ তাদের অসফলতার প্রধান কারণ,  তাসত্ত্বেও সন্ন্যাসী বিদ্রোহের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায়না। 
                           বাংলার মেদিনীপুর জেলায় চুয়াড়দের বসবাস ছিল। 1760 খ্রিস্টাব্দে মেদিনীপুর ইংরেজদের হাতে চলে যায় কিন্তু এই অঞ্চলের জমিদার ছিল অবাধ্য। ধলভূম এর জমিদার জগন্নাথ ধল  চুয়াড়দের সংগঠিত করে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।  ধৌলক, বরাভূম কোয়লাপাল প্রভৃতি মহলের জমিদাররা এই বিদ্রোহে যোগ দেন এবং রাজস্ব বন্ধ করে দেন। তারা জগন্নাথ ধল ও অন্যান্য স্থানীয় জমিদারের সঙ্গে মিলিত হয় এবং এক ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামার সূত্রপাত হয়।  তাদের বিরুদ্ধে ক্যাপটেন মর্গান একদল সৈন্য নিয়ে অগ্রসর হন কিন্তু মর্গ্যান সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত হন এবং বহু সেনা নিহত হয়। 1779 খ্রিস্টাব্দে পুনরায় চুয়াড় বিদ্রোহ হয় এবং ব্যাপক নাশকতায় লিপ্ত হয়। মেদিনীপুর এলাকায় তাদের উপদ্রব চরম আকার ধারণ করে।  আঠারোশো খ্রিস্টাব্দে বহু  অঞ্চলে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে। তাদের দমন করতে লর্ড ওয়েলেসলিকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। এই সময়  তাদের নেতা ছিল  মাধব সিংহ।  বিদ্রোহের  ব্যাপকতায়  মেদিনীপুর শহরের  নিরাপত্তা  বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। 1832 খ্রিস্টাব্দে রাজা গঙ্গানারায়ন এর নেতৃত্বে চুয়াড় বিদ্রোহ হয়।  এই বিদ্রোহ দমনের জন্য সামরিক বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হয় তথাপি শান্তি শৃঙ্খলা অনেক দিন ফিরে আসেনি।     
                            ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে জঙ্গলমহলের চাষি প্রজারা যে বিদ্রোহ করেন ইংরেজদের ভাষায় তা ‘চুয়াড় বিদ্রোহ’। চুয়াড় শব্দের অর্থ হল গোঁয়ার, অসভ্য ইত্যাদি। এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কর্ণগড়ের রানি শিরোমণি। বালিজুড়ি, তসরআড়ার জঙ্গলে তির-ধনুকের বিরুদ্ধে সাহেবদের মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রের লড়াই চলে প্রায় এক বছর। অবশেষে ১৭৯৯ সালের এপ্রিল মাসে রানির অনুচরদের বিশ্বাসঘাতকতায় সমগ্র চুয়াড় বিদ্রোহে ধস নামে। রানি আত্মাহুতি দিয়ে নিজের সম্ভ্রম বাঁচান আর চুয়াড়রা টুকরো হয়ে যায় ইংরেজদের গোলাবারুদের সামনে।
                             চুয়াড় বিদ্রোহের আরেকজন নেতা ছিলেন বাঁকুড়ার রাইপুর এর জমিদার দুর্জন সিং । তিনি ইংরেজ কোম্পানিকে খাজনা বয়কট করেন এবং নিজেকে রাইপুরের স্বাধীন তালুকদার বলে ঘোষণা করেন । দুর্জন সিং বন্দি হন এবং তার জমিদারি নিলামের ব্যবস্থা করা হয় । কিছুদিন বাদে তিনি ছাড়া পান এবং নিজেকে তিরিশটি তালুকের অধিপতি বলে ঘোষণা করেন ।
                         1817 খ্রিস্টাব্দে উড়িষ্যায় পাইক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। পাইকরা ছিল আধা সামরিক এবং তাদের সর্দার এর একান্ত অনুগত। তারা ছিল অত্যন্ত দুর্ধর্ষ। চড়া হারে রাজস্বের কারণে উড়িষ্যার বহু জমিদারি বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। ফলে তাদের অধীনস্থ পাইকরা তাদের জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়। ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে পাইকদের ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পাইকরা খুরদার কর্মচ্যুত সেনাপতি বিদ্যাধর মহাপাত্রের নেতৃত্বে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ ঘাঁটি এবং সরকারি কার্যালয়গুলির উপর আক্রমণ করে এবং প্রায় একশো ইংরেজকে হত্যা করে। খুরদা শহরে সরকারি বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।  সরকারি কর্মচারীরা পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। কিছুদিনের জন্য উড়িষ্যায় ইংরেজ শাসন নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
                        ভারতের অন্যান্য জনসাধারণের ন্যায় প্রাচীন আদিবাসীরাও ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। 1832 খ্রিস্টাব্দের কোল বিদ্রোহ এটাই প্রমাণ করে তারা তাদের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য ক্ষুন্ন করতে দিতে মোটেই প্রস্তুত নয়। সিংভূম এর আদিবাসী রাজা তাহার রাজ্যে ইংরেজের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত তিনি ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। কোল বিদ্রোহের পর মানভূমের ভূমিজীবীরা বিদ্রোহী হয়ে সরকারি কাছারি ও পুলিশ ঘাঁটি জ্বালিয়ে দেয়। এই বিদ্রোহ এমন আকার ধারণ করে যে শেষ পর্যন্ত এক বিরাট সেনাবাহিনীর সাহায্যে দমন করতে হয়। 1831 খ্রিস্টাব্দে ছোটোনাগপুরএ যে কোল বিদ্রোহ হয়েছিল সেই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বুদ্ধ ভগত, জোয়া ভগৎ, ছিন্দরাই মানকি, সুই মুন্ডা। বিদ্রোহের কারণ ছিল বহিরাগত মহাজনদের আগমন, উচ্চহারে রাজস্ব আদায়, ব্রিটিশ বিচার ও রাজস্ব সংক্রান্ত আইন-কানুন প্রবর্তন, কোলদের প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে দেওয়া,  রাজস্ব আদায়ের জন্য সীমাহীন অত্যাচার করা প্রভৃতি।  1831 খ্রিস্টাব্দে মুন্ডা, ওরাও সম্প্রদায় সর্বপ্রথম বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিল। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সিংভূম, মানভূম, হাজারীবাগ উপজেলার সর্বত্র বিদ্রোহ দেখা যায়। চার্লস মেটকাপ এর মতে বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসন ধ্বংস করা তাই বিদ্রোহীদের হাতে জমিদার, যোদ্ধা মহাজন, ইংরেজ কর্মচারী কেউই রেহাই পায়নি। বিদ্রোহ দমনের জন্য দানাপুর, পাটনা থেকে সেনাবাহিনী আসে।  হাজার হাজার আদিবাসী নরনারী ও শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে 1833 খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার এই বিদ্রোহ দমন করে। 
 এখান থেকে যে প্রশ্নগুলি করতে হবে - সন্ন্যাসী বিদ্রোহ বলতে কী বোঝো,  সন্ন্যাসী বিদ্রোহ কবে হয়েছিল, সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা কারা ছিলেন,  সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ব্যর্থ হয়েছিল কেন, চুয়াড় বিদ্রোহ বলতে কী বোঝো, চুয়াড় বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন, পাইক বিদ্রোহ কবে কোথায় হয়েছিল, পাইক বিদ্রোহের নেতা কে ছিলেন, কোল বিদ্রোহের  নেতা কারা ছিলেন, কোল বিদ্রোহ কেন হয়েছিল, কোল বিদ্রোহ কোথায় হয়েছিল প্রভৃতি। 
    কোন প্রশ্ন থাকলে বা জিজ্ঞাসা থাকলে এই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লিখে পাঠাতে হবে 85 97 51 02 99 ।

শুক্রবার, ৮ মে, ২০২০

ষষ্ঠ শ্রেণি , ইতিহাস - অনলাইন ক্লাস , পঞ্চম অধ্যায় - বৌদ্ধ ধর্ম ও বুদ্ধ ।

       নেপালের তরাই অঞ্চলে  কপিলাবস্তুর অন্তর্গত  লুম্বিনী উদ্যানে  566 খ্রিস্টপূর্বাব্দে  বুদ্ধের জন্ম হয় । তাঁর পূর্বনাম ছিল সিদ্ধার্থ । তাঁর পিতার নাম ছিল শুদ্ধোধন  এবং মাতার নাম মায়া দেবী। রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্যের মধ্যে বড় হলেও তিনি সুখী ছিলেন না। তিনি মানুষের  জরা , ব্যাধি  ও মৃত্যু দেখে  ব্যাথিত হন। তিনি জীবাত্মার  মুক্তির পথ খুঁজতে লাগলেন ।  29 বছর বয়সে তাঁর একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সংসারে মায়ার বন্ধন ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে এই ভেবে তিনি একদিন গভীর নিশীথে  সকলের অগোচরে  গৃহত্যাগ করেন । তাঁর এই গৃহত্যাগ  ইতিহাসে  ' মহাভিনিষ্ক্রমণ ' নামে পরিচিত ।
       সিদ্ধার্থ  49 দিন তপস্যা করে দিব্যজ্ঞান অর্জন করেন ও বুদ্ধ নামে পরিচিত হন । তিনি lসারনাথে লুম্বিনী উদ্যানে পাঁচজনের কাছে তাঁর ধর্ম প্রচার করেন । তাঁর ধর্মপ্রচারের ঘটনাটি ' ধর্মচক্র প্রবর্তন ' নামে পরিচিত । তিনি  আর্য সত্য পালনের জন্য ও পার্থিব তৃষ্ণা অবসানের জন্য আটটি সত্যের সন্ধান দেন যা ইতিহাসে ' অষ্টাঙ্গিক মার্গ ' নামে পরিচিত।  এই আটটি মার্গ হল -  সৎ বাক্য , সৎ কর্ম ,  সৎ জীবিকা , সৎ চেষ্টা,  সৎ চিন্তা,  সৎ সচেতনতা, সৎ সংকল্প, সৎ দৃষ্টি । অষ্টাঙ্গিক মার্গ ছাড়াও বুদ্ধ আর্য সত্য পালনের কথা বলেছিলেন । আর্য সত্য হলো ইহজগত দুঃখময় , দুঃখের কারণ আছে ,  দুঃখ নিবৃত্তির উপায় আছে ,  দুঃখ নিবৃত্তির শ্রেষ্ঠ পথ কি তা জানতে হবে। বুদ্ধ মধ্যপন্থার কথা বলেছিলেন ।  মধ্যপন্থা কথার অর্থ হল কঠোর কৃচ্ছসাধনা ও বিপুল ভোগবিলাস দুটোই পরিহার করে মাঝামাঝি পথ নেওয়া । মূলত গৃহী মানুষের জন্যই তিনি মধ্যপন্থার কথা বলেছিলেন । তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সংঘবাসের উপরে গুরুত্ব দিয়েছিলেন । সংঘগুলি ছিল গণতান্ত্রিক ও স্ব-শাসিত ।  এছাড়া তিনি পঞ্চশীল পালনের কথা বলেন। পঞ্চশীল হল পাঁচটি গুণের সমাহার। এই পাঁচটি গুণ হলো অহিংসা, পরের সম্পত্তি আত্মসাৎ না করা, ব্যভিচার না করা, মদ্যপান না করা ও মিথ্যা কথা না বলা। 
      বৌদ্ধদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম ছিল ত্রিপিটক। পিটক কথার অর্থ ঝুড়ি ।  ত্রিপিটক তিনটি ভাগে বিভক্ত -বিনয় পিটক, সূত্ত পিটক, অভিধর্ম পিটক। বিনয় পিটকে রয়েছে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জীবন যাপন, সুত্ত পিটকে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের নৈতিক দিকগুলি,  অভিধর্ম পিটকে রয়েছে আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক দিকগুলি। আনুমানিক 486 খ্রিস্টপূর্বাব্দে মল্ল রাজ্যের রাজধানী কুশিনগরে বুদ্ধ দেহত্যাগ করেন। তাঁর এই দেহত্যাগ ইতিহাসে মহাপরিনির্বাণ নামে পরিচিত । 
      বুদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর বাণী ও উপদেশসমূহ সংকলনের উদ্দেশ্যে তাঁর শিষ্যরা কয়েকটি সঙ্গীতি আয়োজন করেন , এগুলি বৌদ্ধ সংগীতি নামে পরিচিত । সংগীতি কথার অর্থ সম্মেলন। প্রথম বৌদ্ধ সংগীতি আয়োজন হয়েছিল বুদ্ধের মৃত্যুর পর রাজগৃহে অজাতশত্রুর পৃষ্ঠপোষকতায় মহাকাশ্যপ এর সভাপতিত্বে। এই সম্মেলনে বুদ্ধের বাণীগুলি বিষয় অনুসারে ত্রিপিটক এ  বিভক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয় বৈশালীতে কাকবর্ণর রাজত্বকালে। সভাপতিত্ব করেন যশ। এই সম্মেলনে বৌদ্ধধর্ম থেরবাদী ও মহাসংঘিকা এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয় অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় পাটলিপুত্রে। এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিস্য। এই সম্মেলনে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য ধর্মদূত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চতুর্থ বৌদ্ধ সংগীতি অনুষ্ঠিত হয় কনিষ্কের রাজত্বকালে 78 খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরে মতান্তরে জলন্ধরে বসুমিত্রর সভাপতিত্বে। এই সম্মেলনে বৌদ্ধধর্ম হীনযান ও মহাযান এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এছাড়া এই সম্মেলনে বৌদ্ধ বিভাষা রচিত হয়। হীনযানরা বুদ্ধের মূর্তি পূজায় বিশ্বাসী ছিলনা অপরদিকে মহাযানীরা বুদ্ধর ওপর দেবত্ব আরোপ করে। হীনযানরা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় আত্মার মুক্তির কথা বলেন, মহাযানরা বুদ্ধভক্তি দ্বারা সকলের মুক্তির কথা বলেন। বুদ্ধ সামাজিক ভেদাভেদ দূর করে সকলকে মর্যাদা দিয়েছিলেন। তিনি নারীদেরকেও সমান অধিকার দিয়েছিলেন। গণিকা আম্রপালিকে তিনি শিষ্যত্ব দিয়েছিলেন। 
      এখান থেকে যে প্রশ্নগুলি করতে হবে বুদ্ধের জন্ম কবে কোথায় হয়েছিল, ধর্মচক্র প্রবর্তন বলতে কী বোঝো, অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলতে কী বোঝো, আর্যসত্য কি, পঞ্চশীল কি, ত্রিপিটক কি, ক'টি বৌদ্ধ সংগীতি আয়োজিত হয়েছিল, হীনযান ও মহাযান বলতে কী বোঝ, বুদ্ধের মৃত্যু কবে হয়, মধ্যপন্থা বলতে কী বোঝো ? 
       বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি। সবাই বাড়িতে থাকবে সুস্থ থাকবে।
       কোনও সমস্যা থাকলে এই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে জানাতে হবে -  8597510299

বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২০

অনলাইন ক্লাস - সপ্তম শ্রেণী ; বিজ্ঞান - পঞ্চম অধ্যায় , মানুষের খাদ্য ।


খাদ্যের সংজ্ঞা - যে সকল আহার্য সামগ্রী গ্রহণ করলে জীবদেহের বৃদ্ধি , পুষ্টি, শক্তি উৎপাদন ও ক্ষয়পূরণ হয় এবং রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে ওঠে তাকে খাদ্য বলে । খাদ্যে ছটি উপাদান বর্তমান , যথা- শর্করা, প্রোটিন, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন, খনিজ এবং জল ।

   ভিটামিন - C
উৎস - উদ্ভিজ্জ - কমলালেবু, আম ,পেয়ারা, টমেটো, পালং শাক ।
প্রাণিজ- মাতৃদুগ্ধ, মাছ, মাংস, গরুর দুধ ( তবে ফোটানো দুধে থাকেনা ) ।
কাজ- দাঁতের মাড়িকে সুস্থ রাখে, লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা গঠনে সহায়তা করে, দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

অভাবজনিত লক্ষণ - এই ভিটামিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়, রক্তহীনতা, অস্হি ও দন্তক্ষয়, ক্ষত না শুকনো,  রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে ঠান্ডা লাগা , রক্তহীনতা প্রভৃতি হয় ।

ভিটামিন - A 
    উৎস : উদ্ভিজ্জ -  গাজর , মটরশুঁটি ,টমেটো, পালংশাক, বাঁধাকপি । প্রাণিজ - কড , হাঙ্গর ও হ্যালিবাট মাছের যকৃত নিঃসৃত তেলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় । তাছাড়া ,দুধ ,ডিমের কুসুম , মাখন , মাছ ইত্যাদিতে এই ভিটামিন পাওয়া যায় । 
    কাজ -  এই ভিটামিন প্রাণীদের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে , রেটিনার রড কোষ গঠনে সহায়তা করে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে , রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে , স্নায়ুকলার পুষ্টি ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে, অস্থির বৃদ্ধিতে সহায়তা করে ।
    অভাবজনিত লক্ষণ -  রাতকানা এবং অন্ধত্ব বা জেরপথ্যালমিয়া রোগ , চামড়া খসখসে হয়ে যায় এবং ফেটে যায় ,মেরুদন্ড এবং করোটির অস্থি বৃদ্ধি হয় ,করনিয়া বিনষ্ট হয় । 

ভিটামিন - D
   উৎস : উদ্ভিজ্জ - উদ্ভিজ্জ তেলে এবং বাঁধাকপিতে অল্প পরিমাণে পাওয়া যায় ।
  প্রাণিজ - মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল বিশেষ করে কড এবং হ্যালিবাট লিভার অয়েল । তাছাড়া ,ডিম, মাখন ও দুধে এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

 কাজ - ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস শোষণে সহায়তা করে ,অস্থিগঠনে সহায়তা করে , দন্ত গঠন ও দন্ত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে , রিকেট রোগ প্রতিহত করে । 
     অভাব জনিত লক্ষণ - এই ভিটামিনের অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বড়দের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয় ,দাঁতের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় ও দন্ত ক্ষয় হতে দেখা যায় , রক্তের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে যায় এবং ক্যালসিয়াম বিপাক ব্যাহত হয় ।

ভিটামিন - K 
 উৎস :  উদ্ভিজ্জ - বাঁধাকপি ,পালংশাক , টমেটো , আলফা- আলফা শাক ইত্যাদি ।
প্রাণিজ - দুধ ,মাখন , শূকরের যকৃৎ নিঃসৃত তেল ইত্যাদি ।
কাজ - এই ভিটামিন যকৃতে প্রোথ্রমবিন সংশ্লেষে সহায়তা করে , রক্তে প্রোথ্রমবিনের পরিমাণকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে , রক্ত তঞ্চনে সহায়তা করে ।
   অভাবজনিত লক্ষণ - রক্তের প্রোথ্রমবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া , হেমারেজ বা রক্তক্ষরণ হওয়া ।

      ভিটামিন - বি কমপ্লেক্স 
 উৎস : উদ্ভিজ্জ -  ঢেঁকি ছাঁটা চাল , লাল আটা , ঈস্ট , বাদাম ,ভাতের ফ্যান ,পালং শাক, বাঁধাকপি ,টমেটো ,অঙ্কুরিত ছোলা ,মুগ ইত্যাদি ।     প্রাণিজ -  দুধ, ডিম ,যকৃৎ , মাছ , মাংস ইত্যাদি ।
  কাজ - দেহের বৃদ্ধি ,রক্তকোষ গঠন , মিউকাস পর্দা সুস্থ রাখা , পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি করা ,বেরিবেরি , পেলেগ্রা , অ্যানিমিয়া প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধ করা ,স্নায়ু কোষ এবং স্নায়ু সুস্থ রাখা ইত্যাদি ।
   অভাবজনিত লক্ষণ - বেরিবেরি সাধারণত B1 এর অভাবে হয়, অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা সাধারণত ফলিক অ্যাসিড এবং বি টুয়েলভ এর অভাবে হয় ,পেলেগ্রা রোগ হয় , মুখে ঘা এবং জিহ্বায় ঘা হয় , ক্ষুধামান্দ্য, চুল ওঠা , হাত - পা জ্বালা ইত্যাদি রোগ হয় ।

    পটাশিয়াম - K
  উৎস : উদ্ভিজ্জ -  শাকসবজি এবং ফলমূল ।
 প্রাণিজ - মাছ ,মাংস ও ডিম ।
  কার্যকারিতা - প্রাণীদেহে এই লবণ স্নায়ুকোষ গঠন করে , পেশী সংকোচন রোধ করে , CO2 গ্যাস পরিবহন করে ।
  অভাব জনিত লক্ষণ : এই লবণের অভাবে প্রাণীদেহে স্নায়বিক বিশৃঙ্খলা ,অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ,পেশী সংকোচন শিথিলতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়  ,এই লবণের অভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা ঝরে পড়ে ।

         আয়োডিন - I 
 উৎস : উদ্ভিজ্জ - শাকসবজি, আপেল ,লেবু ,সামুদ্রিক লবণ ,মটরশুটি বিট ইত্যাদি ।
  প্রাণিজ - সামুদ্রিক মাছ ,সামুদ্রিক মাছের যকৃৎ নিঃসৃত তেল ,ডিম, দুধ ইত্যাদি । 
 কার্যকারিতা - থাইরক্সিন গঠনে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে ।
 অভাব জনিত লক্ষণ -  এর অভাবে প্রাণীদেহে গলগন্ড রোগ হয় ।

         ফসফরাস - P 
 উৎস : উদ্ভিজ্জ - দানা - শস্য , সিম , মটরশুঁটি ,পালং শাক , টমেটো ইত্যাদি ।
 প্রাণিজ - দুধ ,ডিম, মাছ ,মাংস ইত্যাদি ।
 কার্যকারিতা -  প্রাণীদেহে অস্থি ও দন্তগঠনে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে, নিউক্লিয়াস গঠন এবং কোষ বিভাজনে সহায়তা করে।
     অভাবজনিত লক্ষণ - লবণের অভাবে প্রাণীদেহে রিকেট , অস্থিক্ষয় ,দন্তক্ষয় ইত্যাদি রোগ দেখা যায় । উদ্ভিদের সাধারণ বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং পাতা ঝরে পড়ে ।

    লৌহ - Fe
  উৎস : উদ্ভিজ্জ -  কাঁচকলা, মোচা ,কলমিশাক ,মটরশুটি ,ভুট্টা ,গম, নারকেল ইত্যাদি ।
  প্রাণিজ -  মাছ ,মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদি ।
   কার্যকারিতা - উদ্ভিদের ক্লোরোফিল সংশ্লেষে এবং প্রাণীদেহে হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে ।
   অভাবজনিত লক্ষণ - উদ্ভিদের ক্লোরোসিস বা পান্ডুরোগ হয় । এই রোগে গাছের সবুজ অংশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে , প্রাণীদেহে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গিয়ে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া রোগ হয় ।

রেমডেসিভির কালোবাজারি , গ্রেফতার কয়েকজন , উদ্ধার রেমডেসিভির ।

দেশে ভয়াবহ মহামারীর সাথে সাথেই একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর মদতে সৃষ্টি হয়েছে রেমডেসিভির কালোবাজারি । কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টি-ভাইরা...